
আরিফুল ইসলাম সুমন, (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)।।
অজানা বাংলাদেশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সাম্প্রতিককালে গ্রাম্যসন্ত্রাস বলে বিবেচিত ” দাঙ্গা ” এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কিছুদিন পর পর উপজেলার কোন না কোন গ্রামে ঘটছে এ দাঙ্গা। যার ফলে এখানে জীবনের নিরাপত্তা এক নৈরাজ্যময় পরিস্থিতিতে উপনীত হয়েছে। তবে মাঝে কিছুদিন হয়তো এর প্রকোপ কমে, কিন্তু পুনরায় এটি ভয়াবহ রূপে আত্মপ্রকাশ করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দাঙ্গা প্রিয় মানুষগুলোর ঘরে ঘরে এখন নানা প্রকার দেশীয় অস্ত্র। যেইসব অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত হচ্ছে মানুষ, অঙ্গহানি ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বহু মানুষ এবং এসব অস্ত্রের অপব্যবহারে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্রম মানুষটিকে চির দিনের মতো হারিয়ে এখানকার অনেক পরিবার আজ নানা সমস্যায় নিমজ্জিত। এতোকিছুর পরও এসব মরণাস্ত্র উদ্ধার নেই।
তবে কয়েক বছর আগে তখনকার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এস.পি) এর উদ্যোগে এখানকার থানার ওসি’র দিকনির্দেশনায় চৌকস পুলিশ অফিসার এস.আই আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা সরাইলের বিভিন্ন এলাকায় দাঙ্গা প্রকৃতির লোকদের ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার সহ দাঙ্গার সাথে জড়িত কিছু লোককে আটকের পর তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করিয়েছিলেন। তখন দাঙ্গাবাজরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কমে আসে দাঙ্গার প্রকোপ। পরবর্তীতে অজানা কারণে সেই তল্লাশি অভিযান নিশ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে সরাইলে সংঘটিত কয়েকটি দাঙ্গায় প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়ে। সুশীল সমাজে এ নিয়ে নানা আলোচনা। পুলিশ প্রশাসনও বিষয়টি ভিন্ন ভাবে নিয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে এখানকার দাঙ্গা দমন ও দাঙ্গাবাজদের প্রতিরোধ করতে পুলিশ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারে নেমেছে। গত সোমবার উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আঁখিতারা গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, এখানকার দাঙ্গা প্রতিরোধে বিশেষ করে সরাইল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মফিজ উদ্দিন ভূইঁয়া এক নয়া কৌশলে এগুচ্ছেন। সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আঁখিতারা গ্রামে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কাজল চৌধুরীর সমর্থক বাবুল চৌধুরীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দাঙ্গায় ব্যবহৃত ৮১টি লাঠি, ২০টি টেটা ও ১৪টি ধারালো পল সহ মোট ১১৫টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
এ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ নূরুল হক এর নেতৃত্বে এসআই আবু বকর সিদ্দিক, এসআই মিজানুর রহমান ও তাদের সঙ্গীয় ফোর্স।
এদিকে স্থানীয় সৃত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত একাধিক দাঙ্গায় আহত হয়েছেন পুলিশের ওসি, আওয়ামীলীগের নেতা সহ অন্তত শতাধিক নারী ও পুরুষ এবং নিহত হন এক ব্যক্তি।
সর্বশেষ গত ১১ সেপ্টেম্বর উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আঁখিতারা গ্রামে দাঙ্গায় নৃশংসভাবে খুন হন হারুন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। সেই দাঙ্গায় অন্তত ৩০ নারী ও পুরুষ আহত হন। এর ক`দিন আগে উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া গ্রামে এক দাঙ্গায় চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি হাজী মোঃ ইকবাল হোসেন। বর্তমানে তিনি চিকিসাধীন রয়েছেন। তার একটি চোখ চিরতরে হারাবার পথে। অতিসম্প্রতি সদরের বেপারিপাড়ায় দাঙ্গায় সরাইল থানার ওসি মোঃ মফিজ উদ্দিন ভূইঁয়া ও অন্যান্য ক`জন পুলিশ সদস্য সহ বেশকয়েকজন নারী ও পুরুষ আহত হন।
এলাকার সুশীল সমাজের মানুষদের দাবি, শুধু আঁখিতারা গ্রাম নয়, উপজেলার প্রতিটি গ্রামে দাঙ্গার সাথে জড়িত লোকদের ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে মরণাস্ত্র এসব অস্ত্র উদ্ধার করবে পুলিশ এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।