
মাদ্রাসা শিক্ষক এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে তরুণীকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে এদিকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তরুণী
সিলেট বিভাগের জনপ্রিয় পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল জগন্নাথপুর পত্রিকায় গত ২৭-অক্টোবর ‘সুনামগঞ্জের ছাতকে মাদরাসার শিক্ষকের হাতে ছাত্রী ধর্ষিত
শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে আইনি সহায়তা পেয়েছে সেই তরুনী।
মঙ্গলবার রাতে ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের নয়া লম্বাহাঠি গ্রামের মাওলানা আব্দুল হক ও তার স্ত্রী সাকেরা বেগমের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় মামলাটি দায়ের করেন ভিকটিম (২৪)।
এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় ধর্ষকের স্বজন ও তার অনুসারী মাতব্বররা ওই পরিবারকে গ্রামছাড়া করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় আছে নির্যাতিত তরুণীর হতদরিদ্র পরিবার।
মামলার বিবরণ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ এক দশক ধরে ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের নয়া লম্বাহাটি গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের এক তরুণীকে ধর্মীয় কথাবার্তায় মোহাচ্ছন্ন করে স্ত্রীর সহায়তায় ধর্ষণ করে চলছে একই গ্রামের মাওলানা আব্দুল হক।
দুই বছর আগে এক বিবাহিত প্রবাসীর কাছে ওই তরুণীকে বিয়ে দেন মাওলানা আব্দুল হক। প্রবাসী স্বামী বিদেশ চলে যাওয়ার পর সে আবারও তরুণীকে ধর্ষণ করতে চাইলে বাধা দেন তিনি। কিন্তু এ ঘটনায় মরিয়া হয়ে ওঠে আব্দুল হক।
এ বিষয়টি প্রবাসে থেকে জানতে পারেন তার স্বামী ও তার শ্বশুরবাড়ির পরিবার। এক পর্যায়ে ওই নির্যাতিত তরুণী তার পরিবার ও তার শ্বশুরবাড়ির পরিবারকে তার উপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানো মাওলানা আব্দুল হকের বর্বররতার কথা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষুব্দ ও হতভম্ব হয়ে পড়েন সবাই।
এ ঘটনায় স্থানীয় শালিস হলে মাওলানা আব্দুল হককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু নির্যাতিত নারী আপসের বিষয়টি না মেনে আইনী আশ্রয় নিতে চাইলে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে মাওলানা আব্দুল হকের ঘনিষ্টজন ও কিছু সালিশকারী।
সম্প্রতি এ বিষয়টি নিয়ে জগন্নাথপুর পত্রিকা, সিলেটভিউসহ ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে মুখ না খোলার জন্য তরুণীর পরিবারকে চাপ দেয় কিছু মাতব্বর ও মাওলানা আব্দুল হকের লোকজন।
ঘটনার পর হাসনাবাদ মাদ্রাসা থেকে ওই মাওলানাকে বহিষ্কার করা হয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ।
এদিকে সংবাদ পড়ে গত ২৭ অক্টোবর ঘটনাস্থলে প্যানেল আইনজীবীদের নিয়ে ভিকটিমের কাছে যান সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা পরিষদ নেতৃবৃন্দ।
তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতিত নারী, তার পরিবার ও তার শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা খুজে পান। ওই দিন নির্যাতিত নারী থানায় মামলা করতে রওয়ানা দিলে মাওলানা আব্দুল হকের অনুসারীরা তাদের জোরপূর্বক রাস্তা থেকে ফিরিয়ে নেয়।
ওই দিন রাতে থানায় গিয়ে ভিকটিম পরিবারের মামলা গ্রহণে সহায়তার জন্য ওসিকে বলেন মহিলা পরিষদ নেতৃবৃন্দ।
তাছাড়া পুলিশ সুপারকেও বিষয়টি ফোনে অবগত করেন মহিলা পরিষদ সভানেত্রী গৌরী ভট্টাচার্য্য।
এদিকে আব্দুল হকের অনুসারী কয়েকজন মাওলানা ও সালিশকারী এই ঘটনাটি প্রকাশ, কাউকে শোনানো পাপ বলে ফতোয়া জারি করেন। এতে আলেম সমাজের কলঙ্ক হবে বলে তারা বিষয়টি নিয়ে সবাইকে চুপ থাকার নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার রাতে একঘরে করার হুমকিকে উপেক্ষা করে ছোট ভাইকে নিয়ে থানায় এসে মাওলানা আকরাম আলীর ছেলে ধর্ষক মাওলানা আব্দুল হক (৫৫) ও তার স্ত্রী সাকেরা বেগম (৪৫) এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ওই তরুণী।
মামলায় জোরপূর্বক ধর্ষনের অভিযোগ এনে তার স্ত্রী ধর্ষনে সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলা দায়েরের পর বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তকাজ সম্পন্ন করেন এসআই জাহানারা বেগম। তবে মামলার কারণে ভিকটিমের পরিবার হুমকির মুখে পড়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ বলেন, তরুনীর স্বামীর বাড়ি আমার ইউনিয়নে হওয়ায় তারা কিছুদিন আগে এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা অনেক প্রমাণও আমার পরিষদে এসে দেখিয়েছেন।
মহিলা পরিষদ সভানেত্রী গৌরী ভট্টাচার্য্য বলেন, পত্রিকায় সংবাদ পড়ে আমার দুইজন প্যানেল আইনজীবী নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে সত্যতা খুজে পাই। তরুণী মামলাও দায়ের করতে আমাদের সঙ্গে রওয়ানা দিয়েছিল। কিন্তু কিছু লোক বাধাগ্রস্ত দিয়ে তাকে পথ থেকে ফিরিয়ে নেন। তবে মঙ্গলবার রাতে মামলা হয়েছে। আমি পুলিশ সুপার ও স্থানীয় ওসি মহোদয়কে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।
ছাতক থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান বলেন, মাওলানা আব্দুল হক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওই তরুণী মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় মাওলানা আব্দুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।