
ছাতক প্রতিনিধি:
:ছাতক-দোয়ারা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৫ সংসদীয় আসনে আওয়ামীলীগ তথা মহাজোটের প্রার্থী নিশ্চিত হলেও বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীতা নিয়ে এখানো চলছে টানা-পোড়ন। কে হচ্ছেন বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এ আসনে বিএনপি মনোনীত ২ জন, খেলাফত মজলিস মনোনীত ১ জন ও গণফোরাম মনোনীত ১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বাছাই প্রক্রিয়ায়ও তাদের মনোনয়ন পত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। ৪ প্রার্থীর সকলেই ঐক্যফন্টের প্রার্থী বলে দাবী করলেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মুহিবুর রহমান মানিক এমপি মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেছেন। এ আসনে আওয়ামীলীগে বিদ্রোহী হিসেবে আর কোন প্রার্থী না থাকায় অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন মুহিবুর রহমান মানিক। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন সাবেক এমপি এড. আব্দুল মজিদের পুত্র এড. নাজমুল হুদা
হিমেল। এদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী ছাড়াও মনোনয় পত্র দাখিল করেছেন খেলাফত মজলিসের মাওলানা শফিক উদ্দিন ও গণফোরামের প্রার্থী আইয়ূব করম আলী। মাওলানা শফিক উদ্দিন ও আইয়ূব করম আলী ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থীতা লাভের প্রচেষ্টায় রয়েছেন। তবে জোটের মনোনয়ন না পেলে তারা নির্বাচন করবেন কি না তা এখানো নিশ্চিত নয়। এদিকে, আইয়ূব করম আলী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ও ধানের শীষ প্রতীক সম্বলিত পোষ্টার দিয়ে ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় ছাতক-দোয়ারার তৃণমুল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে দেখা গেছে। অপরদিকে, বিএনপি মনোনীত দু’প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও মিজানুর রহমান চৌধুরীর মনোনয়ন পত্র বাচই প্রক্রিয়ায় বৈধ হওয়ায় উভয় নেতার অনুসারীদের মধ্যে বিরাজ করছে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ। উভয় নেতাই দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, মতবিনিময় ও পথসভা করে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন তারা। দু’প্রার্থীর মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনার এতটুকু কমতি এখনো পরিলক্ষিত হয়নি। দু’জনই নিজেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জোর দাবী করছেন। তবে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের একটাই প্রশ্ন ছাতক-দোয়ারায় কে হচ্ছেন ধানের শীষ প্রতীকের মালিক? বিএনপির দু’প্রার্থী নবীন-প্রবীনের মনোনয়ন যুদ্ধে কে জয়ী হবেন এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে নেতা-কর্মী, সমর্থক ও ভোটাদের মধ্যে। প্রার্থীতার প্রশ্নে মিজানুর রহমান চৌধুরী জানান, তিনিই হচ্ছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী। যথা সময়েই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। অপর প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন জানান, দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। দলের নির্দেশ মতই তিনি নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। দলের প্রার্থীতা নিশ্চিত করতে মনোনয়ন বোর্ড কৌশল হিসেবে প্রায় আসনেই বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে।