
মাহমুদুল হাসান:টাঙ্গাইল প্রতিনিধি;
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের আটটি আসনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন হচ্ছে (টাঙ্গাইল-২) গোপালপুর-ভূঞাপুর।মোট ১৩ টি ইউনিয়ন ও ২ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট তিন লাখ ৪৮ হাজার ৬৭০ জন ভোটার রয়েছে গোপালপুর-ভূঞাপুর উপজেলায়।এ পুরুষ ভোটার একলাখ ৭৫ হাজার ২৩৪ এবং মহিলা ভোটার একলাখ ৭৩ হাজার ৪৩৬ জন।এসব ভোটার মোট ১৩২টি ভোটকেন্দ্রের ৭২৯টি ভোট কক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।
টাঙ্গাইল-২ আসনটিতে ১৯৭৩, ১৯৯৬ (১২ই জুন), ২০০৮, ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬ (১৫ই ফেব্রুয়ারি), ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করেছে। এ ছাড়াও ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি ও ১৯৮৮ সালে জাসদ (সিরাজ) জয়লাভ করে। মূলত এ আসনটিতে আওয়ামী লীগ বিএনপি সমান সমান।বলাযায় দু দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ন।আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক পাওয়ার পর থেকে পুরোদমে গণসংযোগ ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন দুই দলের কর্মীরা।
আওয়ামী লীগ বিএনপির চেয়ে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে।আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া তানভীর হাসান ছোট মনির দলীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাত দিন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মোট কথা এ আসনটিতে প্রচারণার দিক থেকে চালকের আসনে রয়েছেন ছোট মনির। ইতিমধ্যেই তিনি ইউনিয়ন থেকে শুরু করে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্বাচনী অফিস স্থাপন ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে কর্মিসভা করে নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত করে রেখেছেন। সম্প্রতি ভূঞাপুর ও গোপালপুরে দুটি বর্ধিত সভার ব্যানারে বড় দুটি জনসভাও করেছেন তিনি। যাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংগঠনিক সম্পাদক ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে ছোট মনিরের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ভেতরে যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছিল তা অনেকটাই কেটে গেছে। মান অভিমান ভুলে সবাই দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পুরোদমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
অপরদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জেলে থাকায় অনেকটা মন্থর গতিতে চলছে তার প্রচারণা। টুকুর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন বড় ভাই জেলা বিএনপির সভাপতি শামছুল আলম তোফা ও স্ত্রী সায়মা পারভীন। তবে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সভা সমাবেশ করতে পারেনি তারা। খণ্ড খণ্ডভাবে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্র কমিটি দূরের কথা উপজেলায় মূল নির্বাচনী কমিটিই করতে পারেনি দলটি। মোটকথা এখনো অগোছালোই রয়ে গেছে তারা। তবে টুকু পত্নী প্রচারণায় আসায় নেতাকর্মীদের মাঝে অনেকটা প্রাণ ফিরে এসেছে। তবে দলীয় যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে তা এখনো পুরোপুরি নিরসন হয়নি। সাবেক পৌরমেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেক মণ্ডলের অনুসারী লোকজনদের মাঠে দেখা যাচ্ছে না। ফলে অনেকটা হতাশায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীরা। আবার অনেক নেতাকর্মীদের অজানা ভয়েও মাঠে দেখা যাচ্ছে না। তবে, সামনে যে কটা দিন আছে তাতে কতটুকু সফল হতে পারবে তাই দেখার বিষয়।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা বলেন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কারাগারে থাকায় ওনার স্ত্রীকে নিয়ে আমরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে কেন্দ্র কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রচারণায় আমরা ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখতে পেয়েছি। আশা করি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে ইনশাআল্লাহ্।
টাঙ্গাইল-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তানভীর হাসান ছোট মনির বলেন, আমি সামান্য একজন কর্মী হিসেবে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকার যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি এর সম্মান রক্ষার জন্য নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষের মাঝে যে সাড়া দেখা গেছে তাতে নৌকার বিজয় সুনিশ্চত। আমি বিজয়ী হলে একবছরের মধ্যে ভূঞাপুরে গ্যাস সংযোগ, এলাকার সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল করবো। এ ছাড়াও এ আসনটি যমুনার তীরবর্তী হওয়ায় ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা করবো এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো।গোপালপুর ও ভূঞাপুরকে আধুনিক থেকে আরো আধুনিক করবো ইনশাআল্লাহ্।