
এদেশে ইসলাম ধর্ম প্রতিনিয়ত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে, আর এর একমাত্র কারণ বাংলাদেশের আওয়াম মুসলিমজাতি! যারা ইসলামী জ্ঞান সম্পর্কে তেমন একটা অবগত নন। আর তাদের যখনি ইসলামী শিক্ষা কিংবা কোন গুরুত্বপূর্ণ মাসালা মাসায়েল জানার প্রয়োজন হচ্ছে, ঠিক তখনি তাদেরকে ভার্চুয়াল জগতের আশ্রয় নিতে হচ্ছে। আর এই ভার্চুয়াল জগতের
অন্যতম একটি মাধ্যম হল ইউটিউব। আপনি ইউটিউবে বাংলা ওয়াজ-মাহফিল দিয়ে সার্চ দিন অথবা ইসলামি তথ্য জানার জন্য যেকোনো নাম দিয়ে সার্চ দিন, দেখবেন সব বাতিল পন্থীওয়ালা আলেম ওলামাদের ওয়াজ, কথায় আছে, “খালি কলসি বাজে বেশি”। বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি! প্রায় শতকরা ৯০% তাদের ওয়াজ।
তাদের ওয়াজ! যাদের ওয়াজ মাহফিল শুনে প্রতিনিয়ত জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হচ্ছে, মুসলমান মুসলমানের মধ্যে মারামারি হানাহানি সৃষ্টি হচ্ছে, তাদের ওয়াজ! যারা প্রতিনিয়ত রাসূল(দ.) এবং তাঁর সাহাবী ও আউলিয়ার শানে বেয়াদবী করে যাচ্ছে। এবার প্রশ্ন করতে পারেন, ইউটিউবে অন্যান্য দেশের হক্কানী আলেমদের ভিডিও কি নেই?? এইবার আপনাদের
প্রশ্নের উত্তরে বলতে চাই, আমরা হলাম বাংলা ভাষাভাষী মানুষ সুতরাং আমাদের মধ্যে কয়জন আরবী, ইংরেজি, ফার্সি, উর্দু, হিন্দি ইত্যাদি ভাষা বুঝে? আচ্ছা মাদরাসার ছাত্রছাত্রীদের কথা নাহয় বাদ দিলাম কারণ তারা ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত কিন্তু বাংলাদেশের বাকি মানুষদের কি হবে? যারা বাংলা/ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত অর্থাৎ এককথায় “বাঙালী
আওয়াম”। বাংলাদেশের অধিকাংশ আওয়াম মুসলমানরা ঐ সব ভিন্নদেশীয় ওয়াজ মাহফিল বুঝেনা, আর ঠিক এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে আমাদের দেশের বাতিল পন্থীওয়ালা আলেম ওলামারা। তারা আমাদের দেশের টিভি চ্যানেল, ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব ইত্যাদি নিয়ে ফেতনার লক্ষ্যে খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
এবার প্রশ্ন করতে পারেন! আপনাদের দেশের বড় বড় হক্কানী আলেমরা কই? উনাদের দায়িত্ব কি শেষ?বলতে নিজেরই লজ্জাবোধ হচ্ছে, কিছু হক্কানী আলেমকে দেখা যায় মাহফিল করতে গেলে মানুষের ভুলক্রুটি খুঁজতে খুঁজতে মাহফিলের সময় পার করতে কিংবা ইসলামের ব্যাসিক টপিক নিয়ে বারবার আলাপ আলোচনা করতে অথবা না’ত গজল পড়তে
পড়তে মাহফিলের পুরো সময়টা কোনরকমে পার করতে এবং মাহফিল শেষে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে, আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ দরদাম নিয়ে ব্যস্ত (ব্যবসা)। হুম! তাদের মধ্যেও গুটিকয়েক সুক্ষ হক্কানী আলেম রয়েছেন যারা জ্ঞানের সাগর এবং যাদের মুখের প্রতিটা বাণী মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে কিন্তু আপসোস! উনারা ভার্চুয়াল জগতের সাথে
তেমন একটা পরিচিত নন, আর এই সুযোগে বাতিলেরা সব দখল করে বসে আছে।এভাবে আর কত? বাংলার হক্কানী আলেমরা কি কখনোই জেগে উঠবে না? নিজেদের ঘরে বসে বসে বক্তৃতা দিলে চলবে? আপনাদের সুক্ষ জ্ঞানে শিক্ষিত হওয়ার অধিকার কি “আওয়াম বাঙালীর” নেই? বাঙালী আওয়াম মুসলিমজাতি দিনে দিনে পথভ্রষ্ট হতে চলেছে, আর
আপনারা নিজেদের বাড়ি-গাড়ি নিয়ে বড্ড সুখে আছেন। সবাইকে কিয়ামতের দিবসে সৃষ্টিকর্তার দরবারে জবাব দিতে হবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(দ.) কাউকেই ক্ষমা করবেন না!!
কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- রাসূলের (দ.) অপমানে কাঁদে না যার মন, মুসলিম নয় মুনাফিক তুই রাসূলের দুশমন।
রাসূলের দুশমনেরা প্রতিনিয়ত রাসূলেকে অপমান করে যাচ্ছে, আর আপনাদের মন কি একটুও কাঁদে না?
আপনারা যেহেতু দায়িত্ব নিয়েছেন সুতরাং সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে শিখুন। ঘরের কোণে বক্তৃতা না দিয়ে এবার দেশবাসীকে নিজেদের সুক্ষ জ্ঞানের পরিচয় দিন। আজকের দিনে আওয়াম মুসলিমজাতির পাশে দাড়ানো আপনাদের
উপর ফরজ। নিজেদেরকে আড়াল থেকে ভার্চুয়াল জগতে নিয়ে আসুন। মার্জিত ভাষায়(গালিগালাজ ব্যতীত) কথা বলতে শিখুন, যেন মুখের প্রতিটি বাণী শ্রোতার অন্তর স্পর্শ করে আসে। অন্তত নিজের দেশের আওয়াম মুসলমানদের জন্য কিছু একটা করুন। কারণ ফেতনাবাজ কাফের আলেমেরা উটপেতে বসে আছে।
রাসূলুল্লাহ(দ.) বলেছেন__
আমার উম্মতগণ ৭৩ দলে বিভক্ত হবে এবং সবাই জাহান্নামে যাবে, শুধুমাত্র ১টি দল বাদে যারা আমাকে ও আমার সাথীদের অনুসরণ করবে এবং কুরআন ও সুন্নাহ মেনে চলবে (আল হাদিস, তিরমিযী)”
অতএব, সুক্ষ হক্কানী আলেমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি,বাঙালি আওয়াম মুসলিম জাতিকে ঐ সমস্ত জাহান্নামী দলে নাম লিখানো থেকে রক্ষা করুন। মোহাম্মদ ইমদাদ সাকিব, লেখক ও ইসলামিক চিন্তাবিধ।