
আরিফুল ইসলাম সুমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে।।
কাজ-কর্ম রেখে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলাম। এমপি পাশ করলো। কিন্তু একমাস পার হলেও এমপি’র সেবা আমরা পাই না, বিষয়টি বুঝে উঠতে পারছি না।বৃহস্পতিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সদরের একটি চায়ের দোকানে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন কৃষক মোঃ জহিরুল হক। দোকানের পাশের টেবিলে বসে দিনমজুর মোঃ শওকত আলী চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন আর বলছেন, নির্বাচনের পর অন্য এলাকার এমপিরা জনসেবার কাজে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের ভালো-মন্দের খোঁজ খবর নিচ্ছেন, এমপি’র সঙ্গে পুলিশ ও সরকারি গাড়িও থাকে। কিন্তু আমাদের এলাকার এমপি ভোটে পাশ করার পর, যেন আকাশের তারা হয়ে গেছেন, দেখাই মেলেনা। কয়েকদিন আগে বাজারে লোকজন বলাবলি করছিল,
আমাদের এলাকার নতুন এমপি নীরবে আসেন, আবার নীরবেই চলে যান। এই দু’জনের কথার মধ্যে জবাব দেন এ দোকানে চা পান করতে আসা একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। তিনি বলেন, ভোটে পাশ করলে কি হবে ? আমাদের এমপি এখনো শপথই নেননি। শপথ না নেওয়া পর্যন্ত তিনি এমপি হিসেবে কোনো সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। তিনি আমাদেরকেও এমপি’র সেবা দিতে পারবেন না। তখন এই দোকানে অবস্থানরত কয়েকজন বলে উঠেন “শপথ যদি না-ই নেন, তাহলে জনগণের ভোট নিয়ে তিনি এমপি হলেন কেন ? সরাইল ও বন্দরনগরী আশুগঞ্জ এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এর একাদশ জাতীয় নির্বাচনে “ধানের শীষ” প্রতীকে নির্বাচিত এমপি উকিল আবদুস সাত্তার ভূইঁয়াকে নিয়ে সাধারণ ভোটারদের এমন আলোচনা
নির্বাচনী এলাকায় সর্বত্রই। জানা গেছে, এই আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার ভূইঁয়া দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তিনি এখনো শপথ নেননি। এতে এখানকার দুই উপজেলায় উন্নয়নমূলক কাজ সহ নানা কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। মানুষ পাচ্ছেন না এমপির সেবা।তবে এই আসনের নবনির্বাচিত এমপি উকিল আবদুস সাত্তার ভূইঁয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দলীয় সিদ্ধান্তের মতেই আগামি কিছুদিনের মধ্যে তিনি সহ বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত এমপিরা শপথ নিবেন।
এদিকে সরাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, এখানে এমপি কৌটা’র (দ্বিতীয় পর্যায় বরাদ্দ) প্রায় আড়াই কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন ঝুলে আছে সিদ্ধান্তের কারণে। এখানকার নবনির্বাচিত এমপি শপথ না নেয়ায়, এমপি’র দফতরের নানা কাজে ব্যঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।সরাইল ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মোঃ আনাস ইবনে মালেক জানান, পদাধিকার বলে স্থানীয় সংসদ সদস্য এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাপতি। সাংসদ জটিলতার কারণে আমাদের জরুরি গুরুত্বপূর্ণ সভা ডাকতে পারছি না। জরুরি কাজ কর্মও বন্ধ রয়েছে, এমপি না থাকাই।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম মোসা জানান, বিষয়টি নিয়ে কথা বলা জটিল। নবনির্বাচিত এমপি শপথ না নেওয়ায়, এখানকার উন্নয়নকাজে কিছু জটিলতা তো আছেই।এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে উকিল আবদুস সাত্তার ভূইঁয়ার গেজেটে নাম থাকায় তাকে ‘এমপি’ হিসেবে ধরা হলেও তার সংসদ সদস্য পদ শপথ নেওয়ার পরই কার্যকর হবে বলে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা আরো জানান, ৩০ জানুয়ারি একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছে। অর্থাৎ ৩০ জানুয়ারি একাদশ সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। এ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে কেউ শপথ নিয়ে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর না করলে তার আসন শূন্য ঘোষণা করে সেখানে উপ-নির্বাচন দেওয়া হবে। তবে ভোটে জিতে এখনও যারা শপথ নেননি, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিন পর্যন্ত তাদের ‘স্ট্যাটাস’ এমপিই থাকবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির আবদুস সাত্তার ভূইঁয়াকে জয়ী ঘোষণা করে গত ১৩ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।
আমাদের এলাকার নতুন এমপি নীরবে আসেন, আবার নীরবেই চলে যান। এই দু’জনের কথার মধ্যে জবাব দেন এ দোকানে চা পান করতে আসা একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। তিনি বলেন, ভোটে পাশ করলে কি হবে ? আমাদের এমপি এখনো শপথই নেননি। শপথ না নেওয়া পর্যন্ত তিনি এমপি হিসেবে কোনো সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। তিনি আমাদেরকেও এমপি’র সেবা দিতে পারবেন না। তখন এই দোকানে অবস্থানরত কয়েকজন বলে উঠেন “শপথ যদি না-ই নেন, তাহলে জনগণের ভোট নিয়ে তিনি এমপি হলেন কেন ? সরাইল ও বন্দরনগরী আশুগঞ্জ এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এর একাদশ জাতীয় নির্বাচনে “ধানের শীষ” প্রতীকে নির্বাচিত এমপি উকিল আবদুস সাত্তার ভূইঁয়াকে নিয়ে সাধারণ ভোটারদের এমন আলোচনা