
নিজস্ব প্রতিনিধি:
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির নেতারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশের ডাক দিলেও ঘুম ভাঙ্গেনি এখনো অনেক নেতাদের বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিযার মুক্তির দাবিতে আজ শনিবার নগরীর কাজীর দেউড়ি মোড়ে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সমাবেশকে ঘিরে গত ১৫ দিন ধরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা নানাভাবে প্রস্তুতি নিলেও দেখা মেলেনি চট্টগ্রামের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশসহ একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর যেসব চট্টগ্রামের বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা নীরব রয়েছেন তাদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল, আনোয়ারা আসনের বিএনপির সাবেক সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম, সন্দ্বীপের মোস্তাফা কামাল পাশা উল্লেখযোগ্য। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মো. নাছির উদ্দীন শারীরিক অসুস’তার কারণে প্রস্তুতি সভায় আসতে পারেনি কেন্দ্রীয় ও
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সরব রয়েছেন তারপুত্র বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন।জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও তা পাননি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক পরাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান। নির্বাচনের পর থেকে মোরশেদ খানকে আর চট্টগ্রামে দেখা যায়নি।দেখা মেলেনি কোন পার্টির প্রোগ্রামেও এদিকে আজ শনিবার সমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রামে বি এন পির কন্দ্রীয় নেতারা চট্টগ্রাম এসে প্রস্তুতি সভায় অংশ নিলেও দেখা মেলেনি মোরশেদ খানকে। অপর ভাইস চেয়ারম্যান
গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। এরপর থেকে তাকেও দেখা যায় না রাজপথে এবং বিএনপি’র কোন মিটিং এ চট্টগ্রামের রাজনীতি থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকলেও তিনি ঈদের সময় রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এলাকার বিএনপি নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন। তবে সমাবেশ ঘিরেও দেখা মেলেনি গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরীর।চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটিয়া আসন
থেকে বিএনপির মনোনয়ন চান। তাকে প্রথম মনোনয়ন দিলেও চূড়ান্ত মনোনয়ন পান দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এনামুল হক এনাম। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনের পর পরই তিনি কানাডা চলে যান। তিনি আর দেশে আসেননি। যার কারণে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের প্রস্তুতি সভা বা দলীয় কোন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় নেই জুয়েল। বিশেষ সূত্রে জানা যায় গাজী শাহজাহান জুয়েল বিশেষ কোন কাজ না থাকলে বাংলাদেশ তিনি আসেন না তিনি কানাডায় বসবাস করেন জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় মনোনয়ন কিনতে দেখা যায়
তাকে পরে তার মনোনয়ন বাতিল করে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হক এনামকে মনোনয়ন দেয় দলটি একই অবস’ বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের। বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনোয়ারা আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেলেও একদিন প্রচারণায় নেমে আর নামেননি। যার কারণে তার অনুসারী অনেক নেতাকর্মী বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যশী মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগ দান করেন। নির্বাচনের পর থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় নেই সরওয়ার জামাল নিজাম। যার কারণে বিভাগীয়
সমাবেশের প্রস্তুতি সভায়ও দেখা যায়নি বিএনপির নেতাকে।অপরদিকে মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা সমাবেশের নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছেন বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবে রহমান শামীমের সাথে। নিজামের মতো অবস’ সন্দ্বীপের মোস্তাফা কামাল পাশা। তিনিও নীরব রয়েছেন, আজ শনিবারের সমাবেশ ঘিরে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।অপরদিকে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে ঘিরে বিগত দুই সপ্তা্হ ধরে বিএনপির চট্টগ্রাম জেলা উপজেলার সব কয়েকটি ইউনিট, অঙ্গসংগঠনের
সাথে মতবিনিময় করে প্রস্তুতি সভা করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবে রহমান শামীম। এছাড়াও নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশে বক্কর, সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান এক সাথে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলের সাথে মতবিনিয় করে নেতাকর্মীদের সমাবেশের জন্য সাঙ্গা করেছেন। এছাড়াও নিজ নিজ আসনের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময করেছেন তরুণ নেতা বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন, নগর বিএনপির সহসভাপতি আবু
সুফিয়ান। আনোয়ারা কর্ণফুলী আসনের বিএনপি অঙ্গসংগঠনের সাথে মতবিনিময় করেন মোস্তাফিজুর রহমান।এসব বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবে রহমান শামীম বলেন, এখানে কে কি করছে আর কে কি করছে না আমি জানি না। তবে ম্যাডামের মুক্তির সমাবেশ ঘিরে আমরা সবাই কাজ করছি। কোনো নেতাকর্মী ম্যাডামের এই মুক্তির সমাবেশের সময় ঘরে বসে থাকতে পারে না।এদিকে বাঁশখালী থেকে বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক মন্ত্রী আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরী
বিভিন্ন সময় প্রস্তুতি সভা থেকে শুরু করে বিভাগীয় সমাবেশের জন্য সব জায়গায় মিটিং মিছিলে সক্রিয় আছিলেন তিনি বলেন আমি অসুস্থ শরীর নিয়ে মায়ের মুক্তির জন্য রাজপথে নামতে দিদা করছি না আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি আজকের সমাবেশ সফল করার জন্য তিনি আরো বলেন কোনো নেতাকর্মী যদি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে এই আন্দোলনে শরিক না হয়ে ঘরে বসে থাকে তাহলে মা কে মুক্তি করা সম্ভব হবে না তাই সবাইকে রাজপথে এসে মায়ের মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে হবে বলেন তিনি।