
আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে ।
হাজী মোঃ আবুল হোসেন একজন ব্যবসায়ী। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মনে-প্রাণে ভালোবাসেন তিনি। বঙ্গবন্ধু’র আত্মার মাগফেরাত কামনায় পবিত্র ওমরাহ হজ্ব পালন করেন আবুল হোসেন। পৃথিবীতে মা ও বাবার পরে তিনি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করেন। তাইতো বাবা-মা ও আদরের ভাইদের হারানো বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকেও মনে প্রাণে ভালোবাসেন আবুল হোসেন। ন্যাক্কারজনক ২১ আগস্ট হামলার সময়ে আবুল হোসেন সৌদি আরবে ছিলেন। ওইদিন সেখানে কর্মস্থলে কাজ করছিলেন তিনি। হঠাৎ এক সহকর্মী এসে জানালেন বাংলাদেশে গ্রেনেড হামলা হয়েছে, সম্ভবত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মারা গেছেন। খবরটি শুনার সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে ঢলে পড়েন বঙ্গবন্ধু প্রেমী আবুল হোসেন। সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি
করেন। রাতে টেলিভিশনের খবরে দেখতে পান শেখ হাসিনা সুস্থ আছেন, তবে বঙ্গবন্ধুর আরেক সৈনিক জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান মারা গেছেন। বিষয়টিতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেলেও এ ঘটনায় আইভি রহমানের মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে পড়েন আবুল হোসেন। অন্তত ১৫দিন তিনি কাজে যোগ দেননি। গ্রেনেড হামলায় নিহতদের আত্মার শান্তনায় কোরআন খতম দেন আবুল হোসেন।
বঙ্গবন্ধু’র পরিবারের প্রতি এই ভালোবাসার টানে প্রতিবার জাতীয় নির্বাচন আসলেই নৌকার জন্য ভোট চান মানুষের দ্বারে দ্বারে তিনি। নিজের শ্রমে উপার্জিত অর্থে নৌকা প্রতীকের জয়ের জন্য কোরআন খতম ও দোয়ার আয়োজনও করে থাকেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ দল প্রেমিক এই আবুল হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের উচালিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একসময়ের সেরা ফুটবলার ছিলেন। এছাড়াও সামাজিক বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজেও তার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। দলের জন্য সবসময় একাট্টা এই সাদা মনের মানুষটি। তবে একটু রাগী প্রকৃতির, কোনো অনিয়ম সহ্য হয় না তার। নিজে কোনো অন্যায় করবেন না, অন্য কাউকেও অন্যায়ে প্রশ্রয় দেবেন না। অনেকটা প্রতিবাদী একজন মানুষ। তাই অনেকের চোখে লোকটি প্রিয় হলেও হাতেগোনা কিছু লোক তাকে এড়িয়ে চলার চেস্টা করেন অজানা কারণে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসলেই কাজের ফাঁকে দলের প্রচারণা চালাতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়ে থাকেন আবুল হোসেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে নৌকার নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের মতো বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় এবং জাতির জনকের পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনায় কোরআন খতম ও বিশেষ দোয়া করেন হাজী আবুল হোসেন। এর আগে বিগত ৯৬’ সালের জাতীয় নির্বাচনে এবং পরবর্তীতে নবম নির্বাচন ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার জয় সহ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে তিনি কোরআন খতমের পাশাপাশি গরীব, অসহায় এতিম-দুস্থ মানুষদের পেটপুরে খাইয়েছিলেন।কিন্তু এইবার অর্থ সংকটের কারণে, তার ইচ্ছা থাকা সত্বেও তিনি তা করতে পারেননি।
এদিকে পারিবারিক কারণে স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন আবুল হোসেন বর্তমানে একাকী জীবনযাপন করছেন। তবে পুরো পরিবার আওয়ামী ঘরানার নৌকা প্রতীকের সমর্থক। ব্যবসার পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় এবং গভীররাত পর্যন্ত ইবাদত-বন্দেগি ও কোরআন তেলোওয়াতের মধ্য দিয়ে চলছে হাজী আবুল হোসেনের জীবন।স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবুল হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, ১৯৭৫ সালের এক শীতের সকালে জানতে পারেন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে আছেন। তারপর থেকে তিনি বলে আসছেন, যারা এতিম শেখ হাসিনার মাথায় হাত বুলিয়ে দেবেন, তাদের ওপর আল্লাহর রহমত আসবে। আর নৌকায় ভোট দিলেও আল্লাহর রহমত আসবে।
হাজী আবুল হোসেন জানান, বর্তমানে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদিন সকালে নৌকার সমর্থনে ভোট চাইতে প্রচারণায় নেমে পড়েন তিনি। প্রায় দু’তিন ঘণ্টা প্রচারণা শেষে তিনি ছুটে আসেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মস্থলে। এরপর শুরু করেন দৈনন্দিন কাজ। জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল সভা, মিছিলে সরব এই আবুল হোসেন । একসময় সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন তিনি।
দলের স্থানীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে আবুল হোসেন বলেন, ‘দলের নেতারা সবাই আমাকে চেনেন। তবে নেতারা কখনো খবর নেয় না। কিন্তু আমার দৃঢ় বিশ্বাস বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা একদিন ঠিকই আমার খবর নেবেন।’ খবর না নিলেও দুঃখ থাকবে না। তবে আমার শেষ ইচ্ছে, “মৃত্যুর আগে বঙ্গবন্ধু’র দুই কন্যাকে যদি আমি সামনাসামনি দেখে কথা বলে যেতে পারতাম”।আবুল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত শেখ হাসিনা ও নৌকা প্রতীকের জন্য কোরআন খতম, দোয়া করে আসছি। এবারো ইনশাল্লাহ নৌকারই জয় হয়েছে। শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। শেখ হাসিনা আবারো প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় বিশেষ করে দেশের
সুবিধা বঞ্চিত মানুষের আশা পূরণ হয়েছে। এর জন্যে মহান আল্লাহতালার কাছে শুকরানা আদায় করছি। স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুর রহমান, জসিম উদ্দিন, শাহজাহান মিয়া, রোজিনা বেগম, আবুল কালাম, গিয়াস উদ্দিন, মোঃ রিপন মিয়া সহ অনেকে জানান, ‘আবুল হোসেন’ বঙ্গবন্ধু প্রেমিক ও নৌকার একজন ভক্ত। নৌকার জয়ের জন্য বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে দলের হাইব্রিড নেতাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন তিনি। দলের জন্য শুধু বক্তব্য দিলেই হয় না, মন থেকে ভালোবাসতে হয়।