
আরিফুল ইসলাম সুমন, স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল অরুয়াইল ইউনিয়নে চেত্রা নদীর ওপর নির্মিত ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্য বাঁশের সাঁকোতে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে স্কুলশিক্ষার্থী সহ ১০ গ্রামের মানুষ। সম্প্রতি তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ও অরুয়াইল ইউনিয়নের মাঝে চেত্রা নদীর ওপর ব্রীজ নেই। সেখানে বাঁশের সাঁকোয় চলে পারাপার। এ কারণে ইউনিয়ন দু’টির ১০টি গ্রামের মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বছরের পর বছর যাবত। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ভোট এলে সব দলের নেতাই প্রতিশ্রুতি দেন, বাঁশের সাঁকো আর থাকবে না। কষ্ট করতে হবে না। এ নদীর ওপর ব্রীজ হবে। কিন্তু রাজনৈতিক দল পাল্টায়, বাঁশের সাঁকো আর ব্রীজ হয় না। অন্তত ৬০ হাজার মানুষের কষ্ট-দুঃখও ঘোচে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে প্রায় ৩০০ গজ দক্ষিণে চেত্রা নদী। পরিষদ থেকে প্রায় দেড়শ’ গজ পূর্বে তিতাস নদী। এর পূর্বপাড়েই পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। চেত্রা নদীর ওপর প্রায় ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্য বাঁশের সাঁকো। অরুয়াইল ইউনিয়নের নদীরপাড় এলাকার বাসিন্দা আসিফ ইকবাল, বোরহান মিয়া, মোঃ রহমত হোসেন সহ কয়েকজন বলেন, বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার সর্বত্র যোগাযোগের মাধ্যম হল নৌকা। শুষ্ক মৌসুমে যাতায়তে দুর্ভোগ চরমে পৌছায়। চলতে হয় কাঁদা-পানি মাড়িয়ে। তাদের এ দুর্ভোগ শত বছরের।
২০০০ সালে স্থানীয় কিছু লোকের উদ্যোগে চেত্রা নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। প্রতিবছর আশ্বিন মাসে এখানে ৭০০ ফুট লম্বা সাঁকো তৈরি করতে হয়। এই সাঁকো দিয়ে দুই ইউনিয়নের ছোটবড় ২০ গ্রামের মানুষ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাতায়ত করে। পারাপারে জনপ্রতি ২-৫ টাকা ভাড়া দিতে হয়। অনেকের মতে বর্তমানে বাংলাদেশের কোথাও এতো লম্বা বাঁশের সাঁকো আর নেই। বৈশাখ মাসে ঝড় বৃষ্টিতে সাকোটি ভেঙ্গে গেলে অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়ে বিশেষ করে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। তখন রোগী ও বয়স্ক লোকদেরও কষ্টের শেষ থাকে না। ১৫-১৬ বছর ধরে এলাকার বাসিন্দারা চেত্রা নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসেই চলে যায় সময়।
স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক মোঃ আসিফ ইকবাল খোকন বলেন, এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অরুয়াইল বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়, পাকশিমুল উচ্চ বিদ্যালয়, আবদুস সাত্তার ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, অরুয়াইল বাজার, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ব্যাংক সহ পাকশিমুল ও অরুয়াইল ইউপি কার্যালয়ে মানুষ যাতায়াত করে থাকে।এ ব্যাপারে পাকশিমুল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোশারফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তাদের দুই ইউনিয়নের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই দীর্ঘ বাঁশের সাকো দিয়ে চলাচল করেন। এই নদীতে এত দীর্ঘ ব্রীজ নির্মাণের বাজেট ইউনিয়ন পরিষদে নেই। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।