
১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ২৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভাষণ ৭ই মার্চের রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত বিশাল জনস্রোতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ এবং বাঙ্গালী জাতির মুক্তির সনদ পত্র। যে ভাষণ দেয়ার পর বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের ভীত তৈরি হয়। যে ভাষনের মাধ্যমে রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত জনস্্েরাতের চেতনায় শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতির পিতায় রুপান্তিরিত হয়। বাঙ্গালী জাতির এক কঠিন সংকটময় পরিস্থিাতিতে এত আবেগ নিয়ে এ রকম দুরদর্শী ও ভারসাম্যমূলক বক্তৃতা খুবই বিরল। নতুন প্রজন্মের নিকট ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি উপস্থাপন করলাম। ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্ট করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। কি অন্যায় করেছিলাম? নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ সম্পুর্ণভাবে আমাকে, আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমাদের ন্যাশনাল
এসেম্বলী বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করব এবং এদেশকে আমরা গড়ে তুলব, এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, ২৩ বৎসরের করুণ ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। ২৩ বৎসরের ইতিহাস, মুমূর্ষু নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস। বাংলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ১৯৫২ সনে রক্ত দিয়েছি, ১৯৫৪ সনে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সনে আয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে দশ বৎসর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছিল। ১৯৬৬ সনে ৬দফা আন্দোলনে, ৭ই জুনে আমাদের ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯ সালের আন্দোলনে আয়ুব খানের পতন হওয়ার পরে যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গণতন্ত্র দেবেন, আমরা মেনে নিলাম। তারপর অনেক ইতিহাস হয়ে গেল, নির্বাচন হল। আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে তাঁকে অনুরোধ করলাম ১৫ই ফেব্রুয়ারী তারিখে আপনি জাতীয়
পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা রাখলেন না। তিনি রাখলেন ভূট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে হবে। আমরা বললাম ঠিক আছে, আমরা এসেম্বলীতে বসব। আমি বললাম, এসেম্বলীর মধ্যে আলোচনা করব, এমনকি আমি এও পর্যন্ত বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও, একজন যদিও হয় তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব। জনাব ভূট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন, আলোচনা করলেন, বলে গেলেন যে, আলোচনার দরজা বন্ধ না, আরো আলোচনা হবে। তারপরে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, ওদের সঙ্গে আলাপ করলাম: আপনারা আসুন, বসুন, আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করি। তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা যদি এখানে আসে তাহলে কসাইখানা হবে এসেম্বলী। তিনি বললেন, যে যাবে তাকে মেরে ফেলে দেওয়া হবে। যদি কেউ এসেম্বলীতে আসে তাহলে পেশোয়ার থেকে করাচি পর্যন্ত দোকান জোর করে বন্ধ করা হবে। আমি বললাম, এসেম্বলী চলবে। তারপরে হঠাৎ এক তারিখে এসেম্বলী বন্ধ করে দেওয়া হল। ইয়াহিয়া খান সাহেব প্রেসিডেন্ট হিসাবে এসেম্বলী ডেকেছিলেন, আমি বললাম যে, আমি যাব। ভূট্টো সাহেব বললেন, তিনি যাবেন না। পয়ঁত্রিশ জন সদস্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে আসেন। তারপরে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হল। দোষ দেওয়া হল বাংলার মানুষকে, দোষ দেওয়া হল আমাকে। বন্ধ করে দেওয়ার পরে এদেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল। আমি বললাম, শান্তিপূর্ণভাবে আপনারা হরতাল পালন করেন। আমি বললাম, আপনারা কল-কারখানা সবকিছু বন্ধ করে দেন। পয়সা দিয়ে যে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রু আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরীব-দুঃখী আর্ত মানুষের মধ্যে। তার বুকের
উপর হচ্ছে গুলি। আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ, আমরা বাঙালিরা যখনই ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি তখনই তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। টেলিফোনে আমার সঙ্গে তাঁর কথা হয়। তাঁকে আমি বলেছিলাম, জনাব ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, দেখে যান কীভাবে আমার গরিবের উপরে, আমার বাংলার মানুষের উপরে গুলি করা হয়েছে। কী করে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে। কী করে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, আপনি আসুন, দেখুন, বিচার করুন। তিনি বললেন, আমি নাকি স্বীকার করেছি যে, ১০ই তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স হবে। আমি তো অনেক আগেই বলেছি, কিসের আর.টি.সি? কার সঙ্গে বসব? যারা আমার মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছে তাদের সঙ্গে বসব? হঠাৎ আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে পাঁচ ঘন্টা গোপনে বৈঠক করে যে বক্তৃতা তিনি করেছেন, সমস্ত দোষ তিনি আমার উপরে দিয়েছেন। বাংলার মানুষের উপরে দিয়েছেন। ভাইয়েরা আমার, পঁচিশ তারিখে এসেম্বলী কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। আমি দশ তারিখে বলে দিয়েছি যে, ঐ শহীদের রক্তের উপর দিয়ে, পাড়া দিয়ে আর.টি.সি-তে মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না। এসেম্বলী কল করেছেন, আমার দাবি মানতে হবে প্রথম। সামরিক আইন মার্শাল ল’ উইথড্র করতে হবে। সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত নিতে হবে। যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে। আর জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপরে বিবেচনা করে দেখব আমরা এসেম্বলীতে বসতে পারব কি পারব না। এর পূর্বে
এসেম্বলীতে বসতে আমরা পারি না। আমি, আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না। আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই। আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দেবার চাই যে, আজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্ট, কাচারি, আদালত, ফৌজদারী, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান অনিদির্ষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গরিবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে, সে জন্য সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে সেগুলোর হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিকশা, ঘোড়ার গাড়ি চলবে, রেল চলবে, লঞ্চ চলবে, শুধু, সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজ কোর্ট, সেমি-গখর্নমেন্ট দফতরগুলো, ওয়াপদা-কোন কিছু চলবে না। ২৮ তারিখে কর্মচারীরা গিয়ে বেতন নিয়ে আসবেন। এর পরে যদি বেতন দেওয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়, তোমাদের উপর আমার অনুরোধ রইলঃ প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু, আমি যদি হুকুম দেবার না-ও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারব। আমরা পানিতে মারব। তোমরা আমার ভাই-তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের উপরে গুলি চালাবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবাতে পারবে না। আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগের থেকে যতদূর পারি ওদের সাহায্য করতে চেষ্টা করব। যারা পারেন আমার রিলিফ কমিটিতে
সামান্য টাকা-পয়সা পৌঁছিয়ে দেবেন। আর এই সাতদিন হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইরা যোগদান করেছেন, প্রত্যেকটা শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌঁছিয়ে দেবেন। সরকারি কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হবে খাজনা, ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হল। কেউ দেবে না। শোনেন- মনে রাখবেন, শত্রুবাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আতœকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে। এই বাংলায় হিন্দু-মুসলমান, বাঙালি-নন-বাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপরে, আমাদের উপরে, আমাদের যেন বদনাম না হয়। মনে রাখবেন, রেডিও, টেলিভিশনের কর্মচারীরা, যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনে তাহলে কোন বাঙালি রেডিও ষ্টেশনে যাবেন না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, কোন বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না। দুই ঘন্টা ব্যাংক খোলা থাকবে, যাথে মানুষ তাদের মায়না-পত্র নেবার পারে। কিন্তু পূর্ব বাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে পারবে না। টেলিফোন, টেলিগ্রাম আমাদের এই পূর্ব বাংলায় চলবে এবং বিদেশের সঙ্গে নিউজ পাঠাতে হলে আপনারা চালাবেন। কিন্তু যদি এদেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝে শুনে কাজ করবেন। জয় বাংলা। অনেকে বঙ্গবন্ধুর উক্ত ভাষনকে আব্রাহাম লিংকন থেকে আরম্ভ করে অনেক মহান নেতাদের ভাষনের সাথে তুলনা করেন। আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুর উক্ত অসমান্য ও অনবদ্য ঐতিহাসিক ভাষন কারো সাথে তুলনা নয়; বরং বঙ্গবন্ধুর ভাষন বঙ্গবন্ধুর সাথে তুলনা হয়। কথা বলার ধরন, প্রতিটি শব্দ
অর্থবহ, ও উদ্ধৃতিমূলকপূর্বক ১৯ মিনিটের মধ্যে দীর্ঘ ২৩ বছরের ইতিহাস উপস্থাপনে দেশের স্বাধীনতার শেখড় তৈরীর নির্দেশনা প্রদানপূর্বক উপস্থিত ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জন¯্রােতকে একটি চেতনায় উদ্ধৃদ্ধকরন, সব মিলিয়ে উক্ত ভাষণকে বিশ্লেষণ করলে উত্তরে অবাক ও বিস্মিত হওয়া ছাড়া অন্য কোন কিছুই পাওয়া যায়না । প্রতি বছর ১৫ই আগষ্ট-কে আমরা জাতীয় শোক দিবস হিসাবে পালন করি, উক্ত জাতীয় শোক দিবসকে আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুর জন্ম উৎসব দিবস কেননা ঐ দিন বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু দিন নয় বরং জন্ম দিন। ঐ দিন মৃত্যুর মাতৃগর্ভ হতে হাজারো বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি ও বাংলার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছে। বর্বর দানবের অস্ত্রাঘাতে ও ধানমন্ডির ৩২নং বাড়ীর আতœশোনিত ধারা থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছে। মুহুর্তে -মুহুর্তে, মিনিটে-মিনিটে, ঘন্টায়-ঘন্টায়, দিনে-দিনে, বছরে-বছরে, কালে-কালে, যুগে-যুগে বঙ্গবন্ধু নামক জাতির পিতা শেখ মুজিব সদ্য প্রস্ফুটিত টকটকে লাল গোলাপের মত ফুটতে থাকবে। বঙ্গবন্ধু কখনো ঈশা খাঁ কিংবা নবাব সিরাজদৌলা কিংবা তিতুমির কিংবা কখনো সূর্যসেন কিংবা ক্ষুুদিরাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এই সোনার বাংলার দুর্জয় তারুণ্যের হিমালয়। তিনি আবহমান বাংলার পদœা, মেঘনা, যমুনার কালজয়ী কলো যুগে যুগে তিনি আমাদের এই বাংলার জন্য আতœত্যাগ করেছেন। তাহার
বুকে-কখনো আঘাত হেনেছে মীর জাফর, কখনো মোহাম্মদীবেগ, কখনো বা ইতিহাস বিক্ষিপ্ত দল। কিন্তু তার মৃত্যু হয়নি। বর্বর দানবের হাতে, মৃত্যু তাকে কখনো আলিঙ্গন করেনি বরং তিনি মৃতু্যুঞ্জয়ী। আমরা বাঙ্গালী জাতি কখনো রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জন¯্রােতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এবং অমোঘ স্লোাগান জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, তোমার আমার ঠিকানা, পদœা মেঘনা যমুনা। ‘জাগো জাগো বাঙ্গালী জাগো’ পাঞ্জাব না বাংলা, বাংলা বাংলা।’ তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব। ইত্যাদি নদীর ঢেউয়ের মতো সেই উচ্চারিত ধ্বনি ভুলতে পারবনা। ভুলতে পারবনা জাতির পিতা শেখ মুজিব রহমানের সেই আদর্শকে সেই আদর্শ প্রতিটি অনুভবে প্রেরণা ও সাহস যুগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। আমাদের প্রিয় নেতা শেখ মুজিব বাংলার পদাবলি, তিনি বাংলার মঙ্গল কাব্য। তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের অবিস্বরনীয় সূর। জাতীয় কবি কাজী নজরুলের বিদ্রোহ, জীবনানন্দের স্বপ্নীল স্বপ্ন, কবি সুকান্তের বিপ্লবী কন্ঠ, তিনি বাংলার সাড়ে সাত কোটি হৃদয়ের ইতিহাস, তিনি ইতিহাস বাংলার সূদুর প্রসারী ও দূরদর্শী কৃতি সন্তান। অস্বভাবী আচরনবাদী দল, মস্তিষ্ক বিকৃতি ও বিচ্যুত তথা নরপিশাচের ঘাতক দল তারা কি জানে না ইতিহাসের সু-সন্তানের মৃত্যু নেই- তারা অমর। তাদের কোথাও পরাজয় নেই। তারা চিরঞ্জীব, আজ উন্নয়নশীল দেশের উত্তরণে বাংলাদেশের মানুষ তথা বিশ্ববাসী জানে বাংলার মহানায়কের হত্যাকারীর দল ইতিহাস হতে নিক্ষিপ্ত ও নিঃষ্পেষিত। প্রতি বছর মহরম মাসে বিশ্ব মুসলিম
আর্তকন্ঠে – ধ্বনি তুলে হায় হোসেন, হায় হোসেন। কেউ কি মহরমের দিন একবারও স্বরন করে এজিদ কিংবা সীমারকে? তেমনি ভাবে কি করে মুছে যাবে আমাদের প্রিয় নেতার নাম এই বাংলার মাটি থেকে? এই বাংলায় পাখির সুর যতদিন থাকবে, সুরেলা সুজলা-সুফলা শস্য শ্যামলা এ দেশের নদ-নদীর কলতান যতদিন থাকবে, যতদিন কৃষকের হাতে কান্ত থাকবে, যতদিন সোনালী রোদের ঝিকিমিকি আলোর অভদ্যয় হবে, যতদিন মেহনতি মানুষের মাথায় গামছা থাকবে, যতদিন ধানের শীষের উপর ভোরের শিশির পড়বে, যতদিন শিউলি বনে গোপনে শিউলি ঝড়বে, যতদিন পূর্ণিমার চাঁদ কিরণ ছড়াতে থাকবে, যতদিন মসজিদের আযান প্রচারিত হতে থাকবে, যতদিন মন্দিরের কার্সরধ্বনি উচ্চারিত হতে থাকবে, যতদিন জারি-সারি ভাটিয়ালী সুর বাজতে থাকবে, যতদিন বসন্তের উল্লাস চলতে থাকবে, বর্ষার ক্রন্দনে এই বাংলা যতদিন আন্দোলিত হবে, যতদিন লেখকের হাতে লিখনি থাকবে, ততদিন শেখ মুজিব বাঙ্গালী জাতির মনে, মননে এবং চেতনায় চির জাগ্রতও জীবন্ত থাকবে। শেখ মুজিব বাংলার ইতিহাসের একটি দীপ্ত ভোরের শুকতারার নাম হয়ে স্বর্ণ ও হীরের অক্ষরে খোদাইকৃত থাকবে অনন্তকাল। মুজিব আজ একজন মানুষ কিংবা একজন পিতার নাম নয়; ইহা একটি আন্দোলনের নাম, একটি বিপ্লবের নাম, মহাকালের অমর স্মৃতি বিজড়িত ইতিহাসের নাম, একটি ভৌগলিক ভূ-খন্ডের নাম, বাংলাদেশ নামক একটি উন্নয়শীল দেশের মানচিত্রে নাম, এক বিশাল বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির নাম। স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনকের আদর্শ ও চেতনা আমাদের কে সব সময় সামনে এগিয়ে যেতে পথ দেখিয়েছে..দেখিয়েছে সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, ডিজিটাল বাংলাদেশের
রুপকার, দেশরতœ, মানবতার মাতা, বিদ্যানন্দিনী, দেশনেত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারই ধারাবাহিকতায় একক কান্ডারী হয়ে অনন্য ও গতিশীল নেতৃত্বে দিয়ে বর্তমানে আভ্যন্তরীন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সমাপ্তপূর্বক শাস্তি বিধানের ব্যবস্থা, বাংলাদেশ তার নিজের সত্ত্বার সন্ধান ফিরিয়ে দেওয়া, বাংলাদেশকে তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নে রোড মডেল স্বীকৃতি, বাংলাদেশের গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে উন্নীতকরণ, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব অগ্রায়ন, শেখ হাসিনা তার নিজের সাহসী পদক্ষেপ এবং সুচিহিৃত পরিকল্পনায় বিশ্বব্যাংকের ছলচাতুরী উপেক্ষা করে আপন শক্তিতে ও অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়ে উজ্জ্বল সাফল্য অর্জন,
মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপন ৫৭তম স্যাটেলাইট সংষ্কৃতির অধিকারী হিসেবে বাংলাদেশকে অর্ন্তভুক্তকরণ, সমুদ্রসীমার বিজয় লাভ, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার মাতা খেতাব লাভ, কমিউনিটি বিদ্যালয় ও একসাথে ২১৭ কলেজ সরকারীকরণ এর কাজ সমাপ্ত করে চলেছেন। নিঃসন্দেহে উপরোক্ত কাজের মূল্যায়নে বাংলাদেশ আজ তৃতীয় বিশ্বের কাছে এক বিষ্ময়। এই বিষ্ময়ের সাফল্যের সবটুকু বিশ্বনন্দিত জননেত্রী শেখ হাসিনার। আজ সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে মুক্তি অর্জনে অত্যধিক ফলপ্রসূ নেতৃত্বের বিচারের মুল্যায়ন করার সুন্দর পরিসর সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। যেই পরিসরে দাঁড়িয়ে মহান রাব্বুল আলামীন ও তার প্রেরিত রসুল ছরকারে দু’জাহান, সাইয়িদিল মুমেমিন, শফিউল মুজনবিন, রাহমাতুল্লিল আলামিন, বিশ্বমানবতার কান্ডারী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা, আহাম্মদ মুস্তফা (সঃ) এর দরবারে ফরিয়াদ ও প্রার্থনা জানাই